Friday, 2 October 2026

Mahatma Gandhi biography।।মহাত্মা গান্ধীর জীবনী

Mahatma Gandhi biography।।মহাত্মা গান্ধীর জীবনী
Mahatma Gandhi biography।।মহাত্মা গান্ধীর জীবনী
মহাত্মা গান্ধীর জীবনী | Mahatma Gandhi Biography

মহাত্মা গান্ধী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা ও অহিংস দর্শনের প্রবক্তা

পূর্ণ নাম

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

জন্ম

২ অক্টোবর, ১৮৬৯ (পোরবন্দর, গুজরাট)

মৃত্যু

৩০ জানুয়ারি, ১৯ ৪৮ (নয়াদিল্লি)

পিতা ও মাতা

করমচাঁদ গান্ধী ও পুতলিবাঈ গান্ধী

ধর্মপত্নী

কস্তুরবা গান্ধী (বিবাহ ১৮৮৩)

সন্তানসমূহ

হরিলাল, মনিলাল, রামদাস ও দেবদাস

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাজীবন

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দেওয়ান এবং মাতা পুতলিবাঈ ছিলেন একজন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ নারী।

  • প্রাথমিক শিক্ষা: পোরবন্দর ও রাজকোটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।
  • বিলাত গমন (১৮৮৮): আইন (Bar-at-Law) অধ্যয়নের জন্য তিনি লন্ডনের বিখ্যাত ইনার টেম্পলে যান।
  • আইনজীবী পেশা (১৮৯১): ব্যারিস্টারি শিক্ষা শেষ করে ভারতে ফিরে বোম্বে ও রাজকোটে ওকালতি শুরু করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান ও আন্দোলন (১৮৯৩–১৯১৪)

১৮৯৩ সালে একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানকার বর্ণবাদী পরিবেশ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

  • পিটারমারিটজবার্গ ঘটনা: ট্রেনে প্রথম শ্রেণীর বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও কেবল কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ হওয়ার কারণে তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এই অপমান তাকে মানবাধিকার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে।
  • ন্যাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (১৮৯৪): দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য গড়ে তোলেন।
  • সত্যাগ্রহের সূচনা (১৯০৬): এশীয়দের জন্য অপমানজনক রেজিস্ট্রেশন আইনের বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম অহিংস 'সত্যাগ্রহ' আন্দোলন পরিচালনা করেন।
  • টলেস্টয় ফার্ম (১৯১০): জোহানেসবার্গের কাছে তার সত্যাগ্রহীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের জন্য এই বিখ্যাত আশ্রমটি গড়ে তোলেন।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

১৯১৫ সালের ৯ জানুয়ারি গান্ধীজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসেন। তার এই ঐতিহাসিক আগমনকে স্মরণ করে ভারতে প্রতিবছর 'প্রবাসী ভারতীয় দিবস' পালিত হয়। তিনি গোপাল কৃষ্ণ গোখলেকে নিজের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেন।

১৯১৭ – ১৯১৮
চম্পারণ ও খেদা আন্দোলন

বিহারের চম্পারণে নীলচাষীদের শোষণের বিরুদ্ধে এবং গুজরাটের খেদায় খরা পীড়িত কৃষকদের কর মওকুফের দাবিতে সফল অহিংস সত্যাগ্রহ পরিচালনা করেন।

১৯২০ – ১৯২২
অসহযোগ আন্দোলন

রাউলাট আইন ও জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তবে চৌরীচৌরার সহিংস ঘটনার পর তিনি আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

১৯৩০
আইন অমান্য আন্দোলন ও ডান্ডি মার্চ

ব্রিটিশদের অন্যায্য লবণ করের প্রতিবাদে আহমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি পর্যন্ত ২৪ দিনে ৩ ৯০ কিলোমিটার পথ হেঁটে লবণ আইন ভঙ্গ করেন।

১৯৪২
ভারত ছাড় আন্দোলন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ শাসনের চূড়ান্ত অবসানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক "করবো অথবা মরবো" (Do or Die) ধ্বনি দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

রাজনীতি ও দর্শনের মূল স্তম্ভ

দর্শনের বিষয় মূলভাব ও বিবরণ
সত্য ও অহিংসা পাপকে ঘৃণা করা কিন্তু পাপীকে ভালোবাসা—অহিংসার মাধ্যমে শত্রুর হৃদয় পরিবর্তন করাই আসল লক্ষ্য।
সত্যাগ্রহ সত্যের প্রতি অবিচল আস্থা রাখা এবং কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়া।
স্বদেশী ও স্বরাজ বিদেশী পণ্য বর্জন, নিজের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং চরকায় বোনা খাদি বস্ত্রের ব্যবহার।
অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে দলিত সম্প্রদায়কে "হরিজন" (ঈশ্বরের সন্তান) নাম দেন এবং তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেন।
"অহিংসা পরম ধর্ম। সত্যই ঈশ্বর এবং ঈশ্বরই সত্য।" — মহাত্মা গান্ধী

প্রয়াণ ও চিরন্তন স্মৃতি

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নয়াদিল্লির বিড়লা হাউসে সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনা সভায় যাওয়ার পথে নাথুরাম গডসে নামক এক চরমপন্থী তাকে গুলি করে হত্যা করে। চিরবিদায়ের সময় তার শেষ উচ্চারিত বাণী ছিল "হে রাম"।

উপাধি ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা

  • মহাত্মা (Mahatma): কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে প্রথম এই শ্রদ্ধাসূচক উপাধিতে ভূষিত করেন।
  • জাতির জনক (Father of the Nation): নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪৪ সালে সিঙ্গাপুর থেকে আজাদ হিন্দ রেডিওর এক বার্তায় তাকে 'জাতির জনক' বলে সম্বোধন করেন।
  • আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস: তার কালজয়ী অহিংস আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে জাতিসংঘ ২ অক্টোবর তার জন্মদিনকে 'আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস' হিসেবে পালন করে।

© মহাত্মা গান্ধীর জীবনী ও অবদান | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েন করুন

No comments:

Post a Comment

Dont Leave Any Spam Link

Recommended for you